কেন" সবার আগে বাংলাদেশ" এর নেপথ্য ঘটনা বললেন তারেক রহমান

Any Akter
বাংলাবাজার পত্রিকার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১২:২৯ অপরাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫ | আপডেট: ৯:৩৮ অপরাহ্ন, ০২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সময়ে গত ১৫ বছরেই বিভিন্ন সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের নামে দিল্লি থেকে শিল্পী ও নর্তবীদের নিয়ে আসা হতো। ৫ আগস্ট এর পর দেখলাম কোন বড় অনুষ্ঠান হলেই ইসলামাবাদ থেকে শিল্পী আনার কালচার শুরু হয়েছে। এটি আমাদের খুব কষ্টের বিষয় আমাদের শিল্পীদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এজন্যই সবার আগে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিয়ে আমরা সংগঠনটি করতে নির্দেশনা দেই।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

আরও পড়ুন: ৩ মে রবিবার থেকেই শুরু হাওরের কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ

তারেক রহমান বলেন, ঢাকায় ১৬ ডিসেম্বরে আপনারা দেখেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামে একটি কনসার্ট হয়েছে। আমরা গত ১৫ বছরে দেখলাম কিছু হলেই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে শিল্পী আসে। আমাদের দেশের শিল্পীদের কোনো খবর নেওয়া হয় না। সরকারি-বেসরকারি যে কোনো অনুষ্ঠানেই ভিনদেশি শিল্পীদের আনা হয়। শিল্পীরা কী করে না করে তা তথাকথিত এমপি-মন্ত্রীরা মাটিতে বসে দেখেছে। খুবই ইনসাল্টিং ব্যাপার ছিল। নিজেকে খুব ছোট মনে হয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, তারা (পলাতক সরকার) ৫ আগস্ট যখন পালিয়ে গেল। এর আগে ১৫ বছরে দেখেছি কিছু হলেই শুধু ইন্ডিয়ান শিল্পী আসে। আশ্চর্য ব্যাপার। দেশি শিল্পীদের খবরই পাই না। তারপর ৫ তারিখে পরিবর্তন হলো। হঠাৎ করে দেখলাম এতদিন দেখেছি দিল্লি থেকে শিল্পী আসত এখন দেখি ইসলামাবাদ থেকে আসে। পাকিস্তানি শিল্পী আসে; কনসার্ট করে। 

আরও পড়ুন: চার দিনের ডিসি সম্মেলনে উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব

তারেক রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন কেন আসবে? আসবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যে সকল ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য ফান্ড অ্যারেঞ্জ করতে। সেই শিল্পী কোনো পয়সা নেবে না। ওখান থেকে যা পয়সা উঠবে তা ফান্ডে জমা হবে। কিন্তু ওখানে একটা লুকোনো ব্যাপার ছিল। বিপিএল এর খেলা ছিল। পত্রিকার নিউজে আমি যা দেখলাম সেই বিপিএল এর খেলার নাম করে সাড়ে তিন কোটি টাকা ওই শিল্পী নিয়ে যাবে বা নিয়ে গেছে। সকালে নিউজটা দেখার পর খুব মেজাজ খারাপ হলো, খুব বিরক্ত লাগল। আমি তখন আমার দলের কালচারাল লাইনে যারা আছে এরকম কয়েকজনকে ডাকলাম। ডেকে বললাম, আমি একটি কনসার্টের আয়োজন করতে চাই ঢাকা শহরে। কিন্তু ওই কনসার্টের বৈশিষ্ট্য হতে হবে সব বাংলাদেশি শিল্পী থাকবে। সাধারণত কনসার্ট বলতে আমরা বুঝি ব্যান্ড সঙ্গীত যারা করে। আমি বললাম না, বাউল থাকবে পল্লীগীতি থাকবে। অর্থাৎ আমার দেশের সব ধরনের শিল্পী থাকবে। বিকেল থেকে অনুষ্ঠান শুরু হবে। কোথায় করবে, আমি বললাম আমরা মানিক মিয়ার সামনে করলে সমস্যা কোথায়। বিজয় দিবস, মানুষজন আসবে গান শুনবে। আলহামদুলিল্লাহ আমরা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিলাম এবং আলহামদুলিল্লাহ কনসার্ট বলতে যা বোঝায় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কনসার্ট ছিল এটা। আমাদের সবচেয়ে বড় সার্থকতা বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের নামকরা যত শিল্পী আছে সবাই সেদিন সেখানে পারফর্ম করেছেন।

উল্লেখ্য, প্রথমে কোটা সংস্কার এবং তারপর সরকার পতনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত জুলাই ও অগাস্টে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনায় শহিদের সংখ্যা ১৪২৩ জন এবং আহত ২২ হাজার। সরকার পতনের পর বিএনপি রাজনৈতিক দলের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কনসার্টটিই ছিল দেশে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন।