নির্বাচন সুষ্ঠু করতে মাঠে নামছেন ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:০৪ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারা দেশে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁরা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাবলে নির্বাচনী অপরাধের বিচার কার্য পরিচালনা করবেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুই দিন—মোট পাঁচ দিন অর্থাৎ ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিচারিক কার্যক্রম চলবে।

আরও পড়ুন: সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিবৃতি

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’-এর অনুচ্ছেদ ৮৯ (এ) অনুযায়ী নির্বাচনী অপরাধ সরাসরি আমলে নেওয়ার ক্ষমতা পাবেন। বিশেষ করে ভোটদানে বাধা, ভোটকেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং অন্যান্য তফসিলভুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে তাঁরা ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’-এর ১৯০ (১) ধারায় সংক্ষিপ্ত বিচার বা সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করবেন।

আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের এই কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে, যাতে যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন: পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে ভোট দেখলেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের মঙ্গলবার পূর্বাহ্নেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যোগদান করতে হবে এবং যোগদানের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে কোনো অপরাধ আমলে নেওয়া হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসি সচিবালয়ের আইন শাখায় প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

প্রতিটি সংসদীয় আসনে এক বা একাধিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের সহায়তার জন্য বেঞ্চ সহকারী বা স্টেনোগ্রাফার রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার বিচারকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসকদের চাহিদা অনুযায়ী জিপ, মাইক্রোবাস কিংবা স্পিডবোটের মতো যানবাহনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিচারকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পঞ্চগড়-১ থেকে শুরু করে বান্দরবান পর্যন্ত দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে বিচারকদের সুনির্দিষ্ট অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সরাসরি বিচারিক নজরদারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য করতে সহায়ক হবে বলে আশা করছে কমিশন।