হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের, তেলবাজারে নতুন উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তেল পরিবহনের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সব ধরনের নৌযানের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এ ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের একাধিক সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি ট্রাম্পের, আজ রাতেই কঠোর হামলা
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত দুটি জাহাজেও আঘাত হানার কথা জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় কারগান শহরেও বিস্ফোরণে অন্তত দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, গত এপ্রিলে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
আইআরজিসির দাবি, এই সময়ের মধ্যে তেলবাহী ট্যাংকার, বাণিজ্যিক জাহাজসহ কোনো ধরনের নৌযান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে বলে পূর্বে যে দাবি করা হয়েছিল, তাও প্রত্যাখ্যান করেছে সংস্থাটি।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ‘অবৈধভাবে’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোরও দাবি করেছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।





