সোমবার নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন চাইছে, যত দ্রুত সম্ভব নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব তুলে দিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নিতে পারেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন। সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণত স্পিকার শপথ পড়ান। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সম্ভব না হলে সিইসি শপথ পরিচালনা করতে পারেন।
আরও পড়ুন: দেশ ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ তৈয়্যব
সংবিধান কী বলছে
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পরিচালনা করবেন। তৃতীয় তফশিল অনুযায়ী, শপথ পড়ানোর দায়িত্ব স্পিকারের।
আরও পড়ুন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তির মেয়াদ বাতিল
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। সংবিধানে বলা আছে, উত্তরসূরি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার পদে বহাল থাকেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শপথ পরিচালনার বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচনের ফল ও আসনচিত্র
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। শুক্রবার ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে দুটি আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে এবং তাদের জোটসঙ্গীরা পেয়েছে আরও তিনটি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন।
দ্রুত সরকার গঠনের উদ্যোগ
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্র জানায়, প্রশাসনিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। শপথ অনুষ্ঠানের দিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিলে দ্রুত সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট ও সময়সূচি বিবেচনায় শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে কিছু ব্যাখ্যাগত প্রশ্ন থাকলেও দ্রুত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দিকেই এগোচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।





