অমর একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার রাত ১২টা ০১ মিনিটে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। প্রথমে রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
আরও পড়ুন: ৩ মে রবিবার থেকেই শুরু হাওরের কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ
বিএনপি নেতাদের শ্রদ্ধা ও বক্তব্য
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা জানান। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেতারা শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
আরও পড়ুন: চার দিনের ডিসি সম্মেলনে উঠছে ৪৯৮ প্রস্তাব
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দীর্ঘদিন পর একটি ফ্যাসিস্ট শাসনের যাতাকল থেকে একুশ মুক্ত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অসীম এবং একুশের চেতনায় বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলাই হবে লক্ষ্য।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও তিন বাহিনীর শ্রদ্ধা
এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনাররা শ্রদ্ধা জানান। তিন বাহিনীর প্রধানরাও পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশি সংস্থার প্রধানরাও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দেন।
জনতার ঢল ও প্রভাতফেরি
প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর আগেই মধ্যরাতে হাজারো মানুষ হাতে ফুল নিয়ে শহীদ মিনারমুখী লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেন শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।
পলাশ-শিমুলে রাঙা এই দিনে সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়—“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?” সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ নাম না জানা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার শপথে উদ্দীপ্ত জাতি।
২০১০ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে।
সরকারি কর্মসূচি
একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং উত্তোলন করা হয়েছে কালো পতাকা। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।





