যাকাতের সঠিক ব্যবস্থাপনায় ১০–১৫ বছরে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব: তারেক রহমান
শুধুমাত্র যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর যমুনা-য় দেশের আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না থাকলে মিলবে না নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত বণ্টন করা গেলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই দেশের দারিদ্র্য কমাতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।
তিনি জানান, ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে দেশে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হলে অধিকাংশ পরিবার পরের বছর আর যাকাতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।
আরও পড়ুন: বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, ইউএইর সঙ্গে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে
ওলামা-মাশায়েখদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়টি যৌক্তিক মনে হলে বিত্তবানদের সচেতন করতে আলেম-ওলামারাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর অধীনে বিদ্যমান যাকাত বোর্ড পুনর্গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি বছর দেশে যাকাতের পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে পরিকল্পিতভাবে যাকাত বণ্টন না হওয়ায় এই অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজান সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস হলেও কেউ কেউ এ সময় নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দেন। এ ধরনের অসাধু কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাধারণত রমজানের প্রথম দিনেই আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার আয়োজন করা হয়। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এই আয়োজন করা হয়েছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে সীমিত পরিসরে ইফতার আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।





