জ্বালানি তেলে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
যশোরে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ৫৫ বছর পর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে: মির্জা ফখরুল
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, চারদিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেয়নি। বরং জনগণের কষ্ট লাঘবে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জ্বালানির চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার টন, ঈদের আগে তা বেড়ে ২৪-২৫ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছায়। একইভাবে পেট্রোল-অকটেনের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রকৃত উপকারভোগীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য পাবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করেছে, ধর্মগুরুদের সম্মানি চালু করেছে এবং আসন্ন পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া, যা সমাজে বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১৫৩ জন দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ।





