কুলাউড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন চার শতাধিক গর্ভবতী মা
মাতৃত্বের কঠিন সময়ে চিকিৎসার খরচ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার দুশ্চিন্তা দূর করে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় চার শতাধিক গর্ভবতী মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘মা এক্সপ্রেস’। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আল্ট্রাসাউন্ড, বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন ক্যাম্পে আসা মায়েরা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মা’ (মেটারনাল এইড অ্যাসোসিয়েশন)-এর উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে কুলাউড়ার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘স্রোত সাহিত্য পর্ষদ’।
আরও পড়ুন: গ্যাস সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে চালকরা
ক্যাম্পে কুলাউড়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গর্ভবতী মায়েরা চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। প্রায় চার শতাধিক মা বিনামূল্যে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও মূত্র পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের মধ্যে বিভিন্ন ওষুধও বিতরণ করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে গর্ভবতী মায়েদের জন্য আয়রন, জিংক ও ক্যালসিয়ামসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা, পুষ্টি, নিরাপদ প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে মা ও নবজাতকের যত্ন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নীলফামারীতে পুনর্বাসনের দাবিতে উচ্ছেদকৃত ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন
‘মা এক্সপ্রেস’-এর সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডা. ফয়জুল হাসান চৌধুরী বলেন, কুলাউড়ায় মাতৃসেবার এ উদ্যোগে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পাওয়া গেছে। এটি তাদের জন্য একটি পাইলট ক্যাম্পেইন। ভবিষ্যতে কুলাউড়াসহ সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় আরও বৃহৎ পরিসরে এমন কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা থাকবে।
‘মা এক্সপ্রেস’-এর কুলাউড়া সমন্বয়ক সিপার আহমেদ বলেন, এটি শুধু একটি মেডিকেল ক্যাম্প নয়, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার একটি মানবিক উদ্যোগ। প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। তাদের কাছে বিনামূল্যে সেবা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কুলাউড়ার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার উৎসাহ জুগিয়েছে।
স্রোত সাহিত্য পর্ষদের আহবায়ক নুরুল ইসলাম ইমন বলেন, গর্ভবতী মায়েদের পাশে দাঁড়ানোর মতো এমন মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে পেরে তারা আনন্দিত। সাহিত্য-সংস্কৃতির পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করাও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।





