জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ন, ২৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৭:১২ অপরাহ্ন, ২৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকট এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহবান জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা বর্তমানে একটি যুদ্ধ মধ্যবর্তী যুগের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছি, যার ফলে সারাবিশ্বই আজ জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তবে সরকার অত্যন্ত সফলভাবে এ সংকট মোকাবিলা করছে এবং এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই।”

আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমাদের জ্বালানি আমদানির উৎসগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িক কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তবে এই সমস্যা সমাধানে সরকার ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সফলভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”

বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে গুজব ও আতঙ্ক না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “মানুষের মধ্যে মাঝেমধ্যে প্যানিক কাজ করছে, যা একদমই উচিত নয়। প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল আগে সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে তার চেয়েও বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু কিছু অসাধু কালোবাজারি অতিরিক্ত তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।”

আরও পড়ুন: ৫৫ বছর পর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে: মির্জা ফখরুল

তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। “যার যার অবস্থান থেকে কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। এটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার এখন পর্যন্ত জ্বালানি খাতে কোনো ধরনের রেশনিং পদ্ধতি চালু করেনি বা কঠোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়নি। তবে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে কিছুটা সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “সরকার একা সব সমাধান করতে পারবে না; আমাদের সবাইকে মিলে এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে। তাই জনগণকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানাই।”

রাজনীতিবিদ বা বিচারক নয়, বরং নিরপেক্ষ ইতিহাসবিদদের মাধ্যমেই দেশের সঠিক ইতিহাস রচিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সত্যিকারের ইতিহাস জাতি ও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় রাজনীতিবিদরা ইতিহাসবিদ হয়ে যান। এমনকি হাইকোর্টের বিচারক যখন ইতিহাস নিয়ে রায় দেন, তা ইতিহাস হয় না, বরং প্রোপাগান্ডায় পরিণত হয়। প্রোপাগান্ডা সবসময়ই ক্ষণস্থায়ী এবং তা কখনও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।”

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলি রচনার ক্ষেত্রে পেশাদার ইতিহাসবিদদের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “ইতিহাস রচনার একটি নির্দিষ্ট ধারা ও প্রক্রিয়া রয়েছে, যা তথ্য ও গবেষণার ওপর নির্ভরশীল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও বিদ্রোহের কথা অনেক লেখনীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, যা ইতিহাসবিদদের সঠিকভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “সঠিক ইতিহাস লিখলে শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তারেক রহমানের অবদান বুঝতে আর কারো কষ্ট হবে না। রাজনীতিবিদদের কাজ ইতিহাসবিদ হওয়া নয়; ইতিহাসবিদদের কাজ হলো ইতিহাস লেখা।”

বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ও মন্ত্রধারায় আমরা একটি নতুন সরকার পেয়েছি। এখন সময় দেশ গড়ার। সদ্য সমাপ্ত পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মাঝেও মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পেরেছে। ঈদের আগে গার্মেন্টস শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়েও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা ভাঙচুর হয়নি, যা বর্তমান প্রশাসনের একটি বড় সাফল্য।”