প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:২৬ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:২০ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুর সফরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সফরসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের তার চুরি সচিবালয়ে

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার মালয়েশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে চিঠি পাঠিয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ৪৯২ উপজেলার হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে, থাকবে আইসিইউ সুবিধা

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সময়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংও সফরের আমন্ত্রণ জানান। তবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য মালয়েশিয়াকেই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

যদিও সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি ও আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে তা নির্ধারিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সরকারের প্রধানের প্রথম বিদেশ সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; এটি সংশ্লিষ্ট সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারও তুলে ধরে। সেই বিবেচনায় মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে নির্বাচনকে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত ২৪ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করে বাংলাদেশ হাইকমিশন। পরে ১ জুন কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে ২১ ও ২২ জুন সফরের আমন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়।

সফরে অভিবাসন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে মালয়েশিয়ার আগ্রহ রয়েছে।

বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় অধ্যয়ন করছেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান দ্বিতীয়। ফলে শিক্ষা খাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়টি বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শ্রমবাজারের পাশাপাশি শিক্ষা, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশিল্পে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করাই হতে পারে এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।