ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতায় টিকার অভাবে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবী
“হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ও করণীয়” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা টিকা ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতায় টিকার অভাবে যদি হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়, জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল বৈঠক নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। বৈঠকে দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যমকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম।
বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তারা টিকাদান কর্মসূচি জোরদারকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা উন্নয়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: আইন ও বিচার বিভাগে রদবদল: নতুন সলিসিটর সানা মো. মাহরুফ হোসাইন
একজন বক্তা বলেন, টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, যদি ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব এত বৃদ্ধি পায় এবং তা শিশু মৃত্যুর কারণ হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
সেই সঙ্গে অতিথিরা টিকাদান কর্মসূচিতে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে দাবীদাওয়া আদায়ে যেন জনদূর্ভোগ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন: ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমিম, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. হানিফ, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিক, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক আনিসুল হক, গবেষক ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা, বিএমইউর শিশু রোগ বিভাগের ডীন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ইয়ামিন শাহরিয়ার চৌধুরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. তৌহিদ ইসলাম, বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, বিএমইউর এনেস্থেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল, বিএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আবিদ হোসেন মোল্লা, ইপিআই-এর সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. তাজুল ইসলাম এ. বারী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভিলেন্স অফিসার মো. আরিফুর রহমান, দৈনিক কালবেলার হেলথ এডিটর রাশেদ রাব্বি, ইউনিসেফের প্রতিনিধি ডা. হাসানুজ্জামান, জাহিদ শাহেদ, প্রথম আলোর সাংবাদিক শিশির মোড়ল, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশের সদস্য সচিব ডা. শামীম তালুকদার এবং অধ্যাপক ডা. সাকলায়েন রাসেলসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বাংলাদেশের হামের এই প্রাদুর্ভাব নতুন কোনো ধরনের ভাইরাস মিউটেশনের কারণে হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়াকে ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার প্রাসঙ্গিকতাও তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়, যা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং ভবিষ্যতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হবে।
বৈঠকের শেষে অংশগ্রহণকারীরা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।





