জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য খাতে জরুরি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৫৮ অপরাহ্ন, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৫:৫৮ অপরাহ্ন, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আমদানিনির্ভর জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জরুরি ভিত্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদ, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীরা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) গ্রীনওয়াচ নিউজ ম্যাগাজিন ও অনলাইন পেপারের উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ আহ্বান জানান। তারা বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানিই হতে পারে টেকসই সমাধান।

আরও পড়ুন: শিক্ষাকে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বৈঠকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সামগ্রী ও ব্যাটারির দাম অর্ধেকে নেমে আসায় এই খাতে বিনিয়োগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক। সঠিক নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে ২০৪০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্য ২০৩০ সালেই অর্জন সম্ভব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমদ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চেঞ্জ ইনিসিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম জাকির হোসেন খান। সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন গ্রীনওয়াচ অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার।

আরও পড়ুন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুল হক, ডিপিআই সভাপতি আব্দুস সাত্তার দুলাল এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ড. নাজমা আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী নূরুল হুদা চৌধুরী, এলাহী নেওয়াজ খান, সদরুল হাসান, ব্যারিস্টার মোস্তফা তাজ ও মামুনুর রশিদ।

বক্তারা জানান, বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের প্রায় ৮৬ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে, যা বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে গড় আয়ু ৬-৭ বছর কমে যাচ্ছে এবং বছরে এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। গ্যাস, কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারা বলেন, দেশের মোট জ্বালানির ৫৬ শতাংশই আমদানিনির্ভর এবং ২০২৪ সালে এ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গ্যাস সংকটে প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে এবং শিল্প উৎপাদন নেমে এসেছে ৩০-৪০ শতাংশে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তুলনামূলকভাবে প্রতিবেশী দেশ ভারতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ৫১ শতাংশ এবং পাকিস্তানে প্রায় ২৫ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা মাত্র ৫ শতাংশ। এ অবস্থায় দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন বক্তারা।

চেঞ্জ ইনিসিয়েটিভের প্রধান এম জাকির হোসেন খান বলেন, কার্বন ট্যাক্স আরোপের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব। পাশাপাশি কার্বন ট্রেডিং, যাকাত ও দানের অর্থ সংগ্রহ করে একটি তহবিল গঠন করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে একটি স্থায়ী কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেন।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান ৭.৯ ট্রিলিয়ন টাকার বাজেটে জ্বালানি খাতে মাত্র ২.৯ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে, যা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।