জিরো ওয়েস্ট ক্যাম্পেইন: ১৭ দিনের কর্মসূচি শেষ করলো প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন
বাংলাদেশকে ক্ষতিকর আবর্জনামুক্ত করতে পরিবেশ রক্ষায় দেশজুড়ে টানা ১৭ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বুধবার শেষ করলো প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন।
আন্তর্জাতিক জিরো ওয়েস্ট দিবসের বিশ্বব্যাপী পালনকে কেন্দ্র করে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ এ কর্মসূচির সূচনা করে।
আরও পড়ুন: তিন দেশ থেকে ৫ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিল সরকার
দেশের ক্রমবর্ধমান বর্জ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্প্রদায়-চালিত সমাধানকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গত ৩০ মার্চ থেকে ১৭ দিনব্যাপী জাতীয় ক্যাম্পেইন চালু করে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৩ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার চন্দ্রিমা উদ্যানে হাতে-কলমে প্রদর্শনী সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং দৈনন্দিন বর্জ্য—বিশেষ করে রান্নাঘরের বর্জ্য—কে কম্পোস্টের মতো মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরিত করার বাস্তব উপায় নিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
পরিবেশ রক্ষায় বিস্তৃত এই কর্মসূচি, যা বর্জ্য সম্পর্কে শুধু ধারণা নয় বরং শক্তি ও সম্পদে পরিণত করার প্রক্রিয়া প্রদর্শনের জন্য পরিকল্পিত।
প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বক্তব্য রাখেন আরবান রেজিলিয়েন্সের থিম্যাটিক লিড শামসুল আরেফিন।
তারা বাংলাদেশের পরিবার ও সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর কৌশলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ক্যাম্পেইন চলাকালীন বিভিন্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংস্থার বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মূল্যবান অভিমত তুলে ধরেন এবং জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সকলের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বর্জ্য পৃথকীকরণের কৌশল এবং রান্নার বর্জ্যকে কম্পোস্টে পরিণত করার প্রাণবন্ত প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যা ল্যান্ডফিল নির্ভরতা কমানোর সহজ ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য পদ্ধতি দেখায়।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আয়োজিত প্রজেক্ট কনসেপ্ট, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতাসহ একাধিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সম্মাননা প্রদান। এর মধ্যে ছিল দেশব্যাপী জিরো ওয়েস্ট চ্যালেঞ্জও।
এক তরুণ বিজয়ী ‘ম্যাজিক কুকার’ উপস্থাপন করেন—একটি উদ্ভাবনী অথচ সহজলভ্য নকশা, যা পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে সাধারণ নাগরিকদের সৃজনশীল সম্ভাবনার উজ্জ্বল উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের সদস্য, পরিবেশ সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণ এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে তুলে ধরে এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সকলের অংশীদারিত্বকে জোরদার করে।
আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচি তত্ত্ব ও বাস্তবতার মধ্যে সেতুবন্ধন সফলভাবে ঘটিয়েছে। তাঁরা মনে করেন, জিরো ওয়েস্টের দিকে অর্থবহ অগ্রগতি নির্ভর করে ছোট ছোট কিন্তু ধারাবাহিক আচরণগত পরিবর্তনের ওপর।
ক্যাম্পেইন সফল হওয়ায় প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বাংলাদেশ সকল প্রতিযোগী ও অংশগ্রহণকারীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। একইসঙ্গে দেশের দায়িত্বশীল সম্পদ ব্যবস্থাপনার অভিমুখে চলমান যাত্রায় সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।





