জ্বালানি সাশ্রয়ে হাইকোর্টে আংশিক ভার্চুয়াল বিচারকার্য শুরু
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট–এর হাইকোর্ট বিভাগে সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকার্য পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন ও প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুসরণ করে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিচারিক কার্যক্রমেও সীমিত পরিসরে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এ লক্ষ্যে প্রতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকার্য ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হবে।
আরও পড়ুন: সোমবার কারামুক্তিতে ই-বেইল বন্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
রোববার (১৯ এপ্রিল) হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ এবং আদালতের জারিকৃত প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুসরণ করে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিচারপ্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: তৃণমূল বিএনপির বেপরোয়া কর্মকান্ডে ম্লান হচ্ছে সরকারের সাফল্য
এদিকে দীর্ঘ অবকাশকালীন ছুটি শেষে একই দিন থেকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্ট বিভাগের জন্য মোট ৬৩টি বেঞ্চ গঠন করেছেন। এর মধ্যে ২৯টি একক বেঞ্চ এবং ৩৪টি দ্বৈত বেঞ্চ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভার্চুয়াল বিচারব্যবস্থা চালুর ফলে একদিকে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে, অন্যদিকে বিচারপ্রার্থীদের জন্য বিকল্প প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, ইন্টারনেট অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রস্তুতির ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভার্চুয়াল কোর্ট ব্যবস্থা ইতোমধ্যে দেশে একটি সহায়ক বিচারিক মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও, জটিল ও দীর্ঘ শুনানিনির্ভর মামলাগুলোর ক্ষেত্রে সরাসরি আদালত কার্যক্রমের গুরুত্ব এখনো অপরিহার্য। ফলে উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনাই হতে পারে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান।
হাইকোর্ট বিভাগে সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল বিচারকার্য পরিচালনার এ সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দক্ষতা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার গতি ও মান অক্ষুণ্ন রাখার ওপর।





