নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে সিআইডির ১১৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ন, ০৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৯ অপরাহ্ন, ০৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর বনানীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে নির্মিত “বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং” প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার নূর আলী এবং তার প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির দাবি, অনুমোদনহীন ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা আয় করে তা মানিলন্ডারিং করেছেন। এ ঘটনায় বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্কুল পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বৃহস্পতিবার (৮ মে) সিআইডির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সিআইডি জানায়, বনানী এলাকায় ১৪ তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরে সেখানে ফাইভ স্টার হোটেল “শেরাটন” চালু করা হয়।

আরও পড়ুন: মোমেন কমিশনে দুদকের তিন মহাপরিচালক ঘিরে বিতর্ক

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানো হয়।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ভবন নির্মাণে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি। এতে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সিআইডি।

সংস্থাটি আরও জানায়, অনুমোদনহীন ভবনে হোটেল পরিচালনার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের পর সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ হলে লন্ডারকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।