অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমের শুরুতেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল লিভারপুল। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরুটা লিভারপুলের জন্য ছিল বেশ আক্রমণাত্মক। তবে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমে এগিয়ে যায় অ্যাটলেটিকো। জুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে মার্কোস ইয়োরেন্তে গোল করে স্প্যানিশ দলটিকে এগিয়ে দেন।
আরও পড়ুন: রাফিনহার জোড়া গোলে ফেইনুর্দকে উড়িয়ে দিল বার্সেলোনা
গোল হজমের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লিভারপুল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে সমতা ফেরায় তারা। রোনাল্ড আরাউহোর ফ্লিক থেকে পাওয়া বল নিচের কোণায় পাঠিয়ে গোল করেন দোমিনিক সোবোসলাই। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে লিভারপুল। নতুন তারকা ব্র্যাডলি বারকোলার সামনে গোল করার দারুণ সুযোগ এসেছিল। তবে গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি ফরাসি উইঙ্গার।
আরও পড়ুন: আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
এরপর ম্যাচের ৪০ মিনিটের পর লিভারপুলের আক্রমণ আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন। গোলের পর অ্যানফিল্ডের দর্শকদের সামনে উচ্ছ্বাসে উদযাপন করেন আর্জেন্টাইন তারকা।
ম্যাচের আগে নতুন চুক্তি না পাওয়ায় নিজের হতাশা প্রকাশ করেছিলেন ম্যাক অ্যালিস্টার। অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে মাঠেই যেন তার জবাব দিলেন তিনি। দলবদলের সময় অ্যাটলেটিকোর সঙ্গে তার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।
লিভারপুলের জয়ের রাতে অবশ্য স্বস্তি পুরোপুরি ছিল না। এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই পায়ের পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নতুন চুক্তিতে দলে আসা বারকোলাকে। তার চোট কতটা গুরুতর, তা নিয়ে এখন অপেক্ষা করতে হবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলের জন্য।
এদিন লিভারপুলের আক্রমণভাগে একসঙ্গে মাঠে নামেন ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি মূল্যমানের তিন খেলোয়াড়—বারকোলা, আলেক্সান্ডার ইসাক ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। অ্যানফিল্ডে নিজের অভিষেক ম্যাচেই আলোচনায় ছিলেন বারকোলা।
ম্যাচের শুরুতেই সোবোসলাইয়ের দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন ইসাক। তবে তার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শুরু থেকেই লিভারপুলের আক্রমণ ছিল গতিশীল। তবে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হওয়ার কারণে কয়েকবার অ্যাটলেটিকোর পাল্টা আক্রমণের সুযোগও তৈরি হয়।
অন্যদিকে, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ মৌসুমের শুরুতে খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। শনিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও হার দিয়ে শুরু করল দিয়েগো সিমিওনের দল।
ম্যাচে জুলিয়ান আলভারেজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মৌসুমের শুরু থেকে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছার খবর সামনে এলেও অ্যাটলেটিকোর কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়তে রাজি হয়নি। লিভারপুলের বিপক্ষে মৌসুমে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে জায়গা পান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
আলভারেজের পাস থেকেই গোলের সুযোগ তৈরি করেন ইয়োরেন্তে। অ্যানফিল্ডে অ্যাটলেটিকোর হয়ে এর আগেও গোল করা ইয়োরেন্তে এবারও নিজের নাম স্কোরশিটে তুললেন।
দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুলের রক্ষণও বেশ দৃঢ় ছিল। আলভারেজের দূরপাল্লার একটি শট সরাসরি গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের হাতে চলে যায়। শেষ দিকে রবিন লে নরমাঁর গুরুত্বপূর্ণ এক ট্যাকেলে আলেক্সান্ডার ইসাকের আরও একটি গোলের সম্ভাবনা নষ্ট হয়।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এই জয় দলটিকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া সোবোসলাই ম্যাচ শেষে বলেন, লড়াইটি ছিল অত্যন্ত সমান-সমান। তিনি বলেন, আমি ফিরে আসতে পেরে খুব খুশি। এই রাতগুলো সবসময়ই বিশেষ। পিছিয়ে পড়ার পর আমরা ভালো একটি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ম্যাচে সবসময়ই উত্থান-পতন ছিল। দুই দলই ভালো খেলেছে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াইটি প্রায় সমান ছিল।





