নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, বিশেষ ভাতা নিয়ে সুখবর
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নবম জাতীয় পে স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
এ লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি খসড়া বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে পুরো পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আরও পড়ুন: ২২ বছর পর চাঁদপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈশাখী ভাতা বর্তমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে দুটি পদ্ধতি বিবেচনা করছে। একটি হলো তিন ধাপে বাস্তবায়ন, অন্যটি পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি।
প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। অন্যদিকে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা তৃতীয় বছরে দুই ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আয় এবং সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে।
আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় বছরে প্রায় ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সে সময় প্রথমে মূল বেতন এবং পরের বছর বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হয়। এবারও একই ধরনের ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথেই এগোতে পারে সরকার।





