মন্ত্রী জাহিদ হোসেন: গণতন্ত্র সংকটে পড়লেই জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:২০ অপরাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে বা হোঁচট খেয়েছে, ততবারই জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ১৯৭৫ সালের সিপাহী বিপ্লবের পর জনগণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নেতৃত্বে নিয়ে আসে। একইভাবে ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও জনগণ বিএনপির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে।

শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এ জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (জেটেব) আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের স্মরণে এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি।

অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের কোনো স্থান থাকবে না।

আরও পড়ুন: ইউজিসিতে তিন নতুন পূর্ণকালীন সদস্য, চার বছরের জন্য নিয়োগ

তিনি আরও জানান, জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো একদিনের ঘটনা নয়। গত ১৭ বছরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো নিপীড়ন, গুম, খুন ও দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল এই গণঅভ্যুত্থান।

অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের জনরোষের প্রতিফলন। তিনি বলেন, এটি কোনো একক সংগঠনের আন্দোলন ছিল না। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ যখন একসঙ্গে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়, তখনই গণঅভ্যুত্থান সফলতা অর্জন করে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শহীদদের আত্মত্যাগকে গভীরভাবে ধারণ করেন এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সেই অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেনের মা, শহীদ সেলিম তালুকদারের বাবা এবং শহীদ আতিক আহমেদের বড় ভাই তাদের স্বজনদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্যে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

স্মরণসভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধা, জেটেবের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেটেবের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলম।