মেগা প্রকল্পের ঋণের বোঝা এখন দেশের ২০ কোটি মানুষের ওপর: প্রধানমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:২১ পূর্বাহ্ন, ১২ মে ২০২৬ | আপডেট: ৮:২১ পূর্বাহ্ন, ১২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ব্যাপক ব্যয় ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতের এসব ব্যয় ও ঋণের বোঝা এখন দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের ওপর এসে পড়েছে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অডিট প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয়ের উদাহরণ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি কর্মীদের আবাসনের জন্য বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে এবং ৩০–৩৫ হাজার টাকার ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ৪–৫ লাখ টাকায়।

তিনি আরও বলেন, “অন্য দেশে একই ধরনের প্রকল্প ১৪ হাজার কোটি টাকায় সম্পন্ন হলেও আমাদের দেশে রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা।”

আরও পড়ুন: দেশের যেকোনো সংকটে জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: তারেক রহমান

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টানেলের মুখে গাছ লাগানোর নামে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো গাছ পাওয়া যায়নি। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করে বিপুল অর্থ অপচয় করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বিপুল অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, যার অনেক প্রকল্প বাস্তবে সম্পন্ন হয়নি।

পদ্মা সেতু-এর ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যমুনা সেতু বা প্রতিবেশী দেশের অনুরূপ সেতুর তুলনায় পদ্মা সেতুর ব্যয় কয়েকগুণ বেশি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা এখন দেশের প্রতিটি নাগরিকের ওপর পড়েছে। যদি এসব অপচয় না হতো, তাহলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করা সম্ভব হতো।”

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বাহিনীর আবাসন, পরিবহন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করছে। তবে অতীতের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ধীরে এগোতে হচ্ছে, তাই সবাইকে ধৈর্য ধরে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।