দৈনিক বাংলা বাজারে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেই দুই কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ

Shahrier Islam Pallab
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৯ অপরাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দৈনিক বাংলা বাজারে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নীলফামারীর ডিমলা সরকারি খাদ্য গুদামের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ (বদলি) করা হয়েছে।

স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন-ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনার রশিদ ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নবাব। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ চন্দ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: নাজিরপুরে ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন চিতলমারী একাদশ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মামুনার রশিদকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ও নবাবকে পটুয়াখালীর গলাচিপার পাতাবুনিয়ায় স্ট্যান্ড রিলিজ(বদলি) করা হয়েছে।

এর আগে গত ২০ আগস্ট দৈনিক বাংলা বাজার পত্রিকায় ‘ডিমলায় খাদ্য গুদামে ঘুষ বানিজ্য ও নতুন  বস্তা বিক্রির অভিযোগ’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর নীলফামারী জেলা খাদ্য বিভাগ তিন সদস্যের ও খাদ্য অধিদপ্তর এক সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।জেলা খাদ্য বিভাগের তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা না বলে শুধু ডিলারদের কাছ থেকে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি—এমন মর্মে স্বাক্ষর নিয়ে দায়সারা ভাবে তদন্ত করে ভুড়িভোজ খেয়ে চলে যান।

আরও পড়ুন: চাইনিজ ব্যবসায়ীর কোটি টাকা চুরি

পরবর্তীতে গত ২৭ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তরের এক সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ও রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সালেহ আজিজ ডিমলা খাদ্য গুদামে তদন্তে আসেন। তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় গুদামের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে প্রমানসহ উপস্থাপন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান ডিমলা খাদ্য গুদামে আকস্মিক অডিটে আসেন।তার দিনব্যাপী অডিটে খাদ্য গুদামের বস্তা, চাল ও ধানের হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে গড়মিল ও অনিয়ম ধরা পরে যায়। পরে ওই তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক (মামলা ও তদন্ত শাখা) ফজলে রাব্বি হায়দারের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা গুদামে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন। তারাও বিভিন্ন গড়মিল ও অনিয়ম দেখতে পান বলে একাধিক গোপন সুত্রে জানা যায়।যার কারণে তাৎক্ষণিক সাময়িকভাবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের চাল সরবরাহ বন্ধ করে দেস।এর পরেরদিনই অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।