জাতীয় ঈদগাহে ছয় স্তরের নিরাপত্তা, ঢাকায় দায়িত্বে থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জাতীয় ঈদগাহসহ মহানগরীর প্রায় এক হাজার ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
বুধবার (২৭ মে) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের দিন রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য মোট পাঁচটি গেট রাখা হয়েছে, যার মধ্যে চারটি পুরুষ ও একটি নারী মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় মাঝপথে বেশি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা: সড়কমন্ত্রী
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় ঈদগাহকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঈদগাহের সব প্রবেশপথে আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। মৎস্য ভবন ক্রসিং, প্রেস ক্লাব এলাকা ও হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে বিশেষ তল্লাশি ও ব্যারিকেড ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন এবং ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, প্রবেশ গেট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল টিমও প্রস্তুত থাকবে।
তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে হারানো ও প্রাপ্তির তথ্য সংরক্ষণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার করা হবে।
ঢাকার অন্যান্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ক্রাইম বিভাগগুলোকে আয়োজক কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো জামাত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে থাকবে না।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের দিন সকাল ৬টা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। গাড়িতে আগত মুসল্লিদের নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশের অনুরোধ জানান তিনি।
মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি শুধুমাত্র জায়নামাজ ও প্রয়োজন হলে ছাতা সঙ্গে আনার পরামর্শ দেন। ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা অপ্রয়োজনীয় ধাতব বস্তু না আনার আহ্বান জানান। সন্দেহজনক কিছু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তায় মোবাইল, ফুট ও মোটরসাইকেল পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিংমল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ নজরদারি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক প্রচারণা প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।





