আজ কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) সকালে তিনি সপরিবারে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। তার এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
সফর উপলক্ষে কক্সবাজারজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন গতি যোগ করবে।
আরও পড়ুন: নতুন বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি: ফখরুল
জেলা বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ অন্যতম।
কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ নেই: এনবিআর চেয়ারম্যান
অন্যদিকে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, সদর হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম গড়ে তোলার দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।
পর্যটন ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়নেও বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে এসেছে। স্থানীয় নেতারা দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা, সোনাদিয়া দ্বীপে বিশেষ পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বাঁকখালী নদীর ড্রেজিং এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ি অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা, লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং ব্লু ইকোনমি ও সামুদ্রিক বিজ্ঞানভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার ও চকরিয়া এলাকায় একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা, বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং স্থানীয় জনসভায় বক্তব্য প্রদান।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি চকরিয়ায় একটি জনসভা এবং কক্সবাজার শহরে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করে সমুদ্র উপকূলীয় উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজখবর নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কক্সবাজারে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনও সফরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।





