সমঝোতা লঙ্ঘনের পর
ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ জনের বেশি সেনা নিহত: দাবি আইআরজিসির
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের যে পরিসংখ্যান ওয়াশিংটন প্রকাশ করেছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
আরও পড়ুন: ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের সংকটে ইরানে হামলা বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র
তিনি দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আটটি সেনা মোতায়েন কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলাতেই ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে।
মোহেব্বির ভাষ্য, ‘অপারেশন নাসর-২’-এ যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি।
আরও পড়ুন: পৃথিবী বদলে দিতে পারে তনিমার গবেষণা, বলছে সায়েন্টিফিক আমেরিকান
তিনি আরও বলেন, মার্কিন জনগণের উচিত তাদের ‘মিথ্যাবাদী সামরিক কর্মকর্তাদের’ বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস না করা। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ধ্বংস হওয়া সামরিক ঘাঁটিগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দিলে হতাহতের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাবে।
আইআরজিসির এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩ রাত ধরে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এসব হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরে ৮ এপ্রিল ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ।
পরবর্তীতে ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। তবে ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র সেই সমঝোতার সব শর্ত লঙ্ঘন করায় তারা কঠোর জবাব দিয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আইআরজিসির এই হতাহতের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি





