স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও র‍্যাবের আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল, পরে ভারতে নেওয়া হয়: চিফ প্রসিকিউটর

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তার দাবি, পরবর্তীতে সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

শনিবার (১ আগস্ট) র‍্যাবের টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: দুই স্টেশনে বোমাতঙ্ক, স্বাভাবিক হলো মেট্রোরেল চলাচল

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুম ও হত্যার শিকার প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যক্তির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সাজেদুল ইসলাম সুমনের নাম উল্লেখযোগ্য। এসব ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছেও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সাক্ষ্য, ভুক্তভোগীদের বর্ণনা এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, সালাহউদ্দিন আহমদকে র‍্যাব-১-এর আয়নাঘরের একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তেও এ বিষয়ে তথ্য মিলেছে। টিএফআই সেলে মোট ২৯টি কক্ষ রয়েছে এবং এসব কক্ষ কী উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসামিদের আদালতে ব্যাখ্যা দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে ‘ক্লিনিং ডে’ ও বর্জ্য শোভাযাত্রা

মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আয়নাঘরের ভুক্তভোগীদের মধ্যে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম আরমান অন্যতম। তার দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি কক্ষও পরিদর্শন করেছেন ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তাদের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদীসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্য এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় গুম কমিশনের সদস্য নুর খান লিটন এবং গুমের শিকার সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলিও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ র‍্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির কথিত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়।