ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট শেষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৩ অপরাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় শুরু হয়েছে পণ্য আমদানি-রপ্তানি। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটায় স্বস্তি ফিরেছে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের মধ্যে।

হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা প্রিন্স কুমার জানান, ছয় দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আবারও সচল হয়।

আরও পড়ুন: জিসপ বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের কার্যক্রম শুরু

ধর্মঘটের কারণে কয়েক দিন ধরে বন্ধ থাকা বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।

এর আগে ৩০ অগাস্ট থেকে বিভিন্ন দাবিতে বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ডাক দেয় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এতে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়েছে যায়। স্থবির হয়ে পড়ে বন্দরের কার্যক্রম। তবে পাসপোর্ট যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

আরও পড়ুন: উচ্চ সুদের আবর্তে চা উদ্যোক্তারা, বিক্রয়মুল্যে উৎপাদন ব্যয় উঠে না

ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মন্ডল মোবাইলে বলেন, হিলি বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্যিক জটিলতা নিরসনে দাবি জানিয়ে আসছিল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু প্রশাসন সমাধানে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ধর্মঘটের ডাক দেন তারা।

তিনি বলেন, বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বালুরঘাট সফরে আসলে হিলি স্থলবন্দরকে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সহজীকরণে পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। এরপরই বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

বিকাশ বলেন, বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানিতে কি কি বাধা রয়েছে তা তুলে ধরা হয়। সেখানে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে জেলা প্রশাসন সমস্যাগুলো সমাধানে আশ্বস্ত করেন। এরপর ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।

ছয় দিন বন্ধ থাকার পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য শুরু হয়েছে বলে জানান ভারতের এই শ্রমিক নেতা।

বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হক বলেন, ‘‘শুক্রবার ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজেশ কুমার আগরওয়ালা পিন্টু স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি। এতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘ধর্মঘট প্রত্যাহারের প্রথম দিন ভারত থেকে তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। বেলা ১২টার পর আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে বেশকিছু ট্রাক ভারতে প্রবেশ করছে।’’

ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে হিলি স্থলবন্দর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় বহু অংশে পিছিয়ে পড়েছে। শত শত ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। কিন্তু অন্য স্থলবন্দরগুলো দিয়ে দিব্যি ব্যবসা হচ্ছে। সেখানে কোনো প্রশাসনিক ঝামেলা বা প্রতিবন্ধকতা নেই।

তারা বলছেন, শুধুমাত্র হিলি বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যতসব প্রশাসনিক নিয়মকানুন ও অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সমাধানের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

এসব বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে বাধ্য হয়ে ৩০ অগাস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়।

বগুড়ার পাইকারি বাজার ‘রাজা বাজারের’ সাধারণ সম্পাদক ও আমদানিকারক পরিমল প্রসাদ বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হওয়ার পর দেশের উত্তরাঞ্চলের বাজারে প্রভাব পড়ে। তবে আমদানি-রপ্তানি শুরু হওয়ায় আবার তা স্বাভাবিক হবে।