ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেতে অনেক বেশি মূল্য দিয়েছি: রাষ্ট্রপতি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:১০ অপরাহ্ন, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১:৩০ পূর্বাহ্ন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি ও গণতন্ত্র ফিরে পেলেও এর জন্য জাতিকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের ঋণ রাষ্ট্র কখনো শোধ করতে পারবে না।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম সঙ্গে ছিলেন।

আরও পড়ুন: মেট্রোরেলের ৪৬ পিলারে ফাটল, ২৭ বিয়ারিং প্যাড গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ

জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

দর্শনার্থীর টিকিট নিয়ে জাদুঘরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ বা দীর্ঘ গণতান্ত্রিক যাত্রার ওয়াকওয়ে ঘুরে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র দেখেন তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মারক ও রেপ্লিকা আয়নাঘরও পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি।

আরও পড়ুন: খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত মাঠ তৈরির উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। এ ছাড়া বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনের বিভিন্ন সামগ্রী এবং জোরপূর্বক গুমের নানা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

জাদুঘরে সংরক্ষিত শহিদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলন-সংগ্রামের নানা চিত্রও দেখেন তিনি। পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখেন। প্রামাণ্যচিত্রটি দেখার সময়ও তাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে তিনি লেখেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি তাদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শহিদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্র সম্পর্কে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।