রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার , ২০০টির বেশি চেকপোস্ট
সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কড়া নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। ব্যারিকেড বসিয়ে একের পর এক যানবাহন থামিয়ে যাচাই করা হচ্ছে কাগজপত্র ও যাত্রীদের পরিচয়। সন্দেহ দেখা দিলে তল্লাশি করা হচ্ছে গাড়ি ও সঙ্গে থাকা লাগেজ। মোটরসাইকেল আরোহীদেরও থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। এতে কোথাও সাময়িকভাবে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়লেও তল্লাশি শেষে স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে যানবাহন।
ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের পর এভাবেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে দৃশ্যমান হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তার চাপ। ঢাকার ২০০টির বেশি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে এই তল্লাশি।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো ডিএমপি
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং কাফরুল থানার সামনে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর নগরীর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। মালিবাগ থেকে আগারগাঁও, মহাখালী থেকে যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার থেকে মগবাজার—গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নজরদারি।
গতকাল শনিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানী জুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাসার কাছেই চিরশায়িত অপ্রতিম
তিনি বলেন, ঢাকার ২০০টির বেশি জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার এবং প্রবেশপথগুলোতে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে। সন্দেহজনক যানবাহনে নিবিড় তল্লাশির পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ওপর রাখা হচ্ছে বিশেষ নজর।
চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতা: রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পুলিশের চেকপোস্টে যানবাহন থামিয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট যানবাহনকে আলাদা করে তল্লাশি করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলের চালকদের ক্ষেত্রেও একইভাবে যাচাই করা হচ্ছে কাগজপত্র ও যানবাহনের বৈধতা।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপরাধ সংঘটিত করা না যায়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। চেকপোস্টের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে মোবাইল প্যাট্রল, ফুট প্যাট্রল ও হোন্ডা প্যাট্রল। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিকেট ডিউটিও জোরদার করা হয়েছে।
মাঠে ডিবি-সিটিটিসি-এপিবিএন: নগরীর নিরাপত্তাব্যবস্থায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং এপিবিএনের সদস্যদেরও মাঠে রাখা হয়েছে। নাশকতা ও বড় ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ডিএমপি জানিয়েছে, নগরীর প্রতিটি বিভাগকে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। ফলে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের পর রাজধানীর রাজপথে এখন একসঙ্গে দৃশ্যমান পুলিশের চেকপোস্ট, ব্যারিকেড, যানবাহনে তল্লাশি ও বাড়তি টহল। নগরীর প্রবেশপথ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মোড়—নিরাপত্তার এই বাড়তি বলয়ের মধ্যেই চলছে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।





