লালমনিরহাটে ভূয়া এসআই পরিচয়ে গাঁজা পাচার, গ্রেপ্তার ৩

Shahrier Islam Pallab
মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫২ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লালমনিরহাটে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পরিচয় দিয়ে অভিনব কায়দায় গাঁজা পাচারের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট সদর থানাধীন রাজপুর ইউনিয়নের কাজলীর বাজার সংলগ্ন সতী নদীর তীরের পাকা সড়ক থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: নান্দাইলে শিশুকে বলাৎকার করতে ব্যর্থ হয়ে হত্যার অভিযোগ, কিশোর আটক

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের নওশাদ আলীর ছেলে মো. মঞ্জুর আলম (৪০), একই এলাকার ইন্তাজ আলীর ছেলে মো. লিটন (৩০) এবং কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নাউডাঙ্গা এলাকার টাঙ্গুরা মামুদের ছেলে মো. হারুন অর রসিদ (৫০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন ব্যক্তি নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পরিচয় দিয়ে গাঁজার একটি চালান নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের চলাফেরা ও আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাদের আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন।

আরও পড়ুন: সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় নাগরিকদের আরো সতর্ক ও দক্ষ হতে হবে: প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ

খবর পেয়ে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই (নিঃ) মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাদের দেহ ও সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ৯ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা কী উদ্দেশ্যে এবং কোথা থেকে গাঁজার চালানটি নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে আরও কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন কবির জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক পরিবহন ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।