‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক, পুরোনো মামলায় আইভীর আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালত প্রাঙ্গণে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি পুরোনো মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সহকর্মী আইনজীবী ও সংস্কৃতিকর্মীদের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোনো স্লোগান দেননি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাতে নারায়ণগঞ্জের আল্লামা ইকবাল রোড ও দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী এ তথ্য জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বেবিচকের উদ্যোগে দেশজুড়ে শুরু ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক–২০২৬’
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান তুষার ও জিয়াউল ইসলাম কাজলের ভাই আতিকুল ইসলাম। মাহবুবুর রহমান তুষার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দেন। ওই সময় আদালত প্রাঙ্গণে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে হামলার প্রভাব: ঢাকায় বাতিল ৮৯ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৪ হাজার যাত্রী
তিনি বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের পক্ষে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পুরোনো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলার এজাহারে তাদের নাম না থাকলেও তদন্তের স্বার্থে সন্দিগ্ধ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তুহিন হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। সকালে তিনি আদালতে হাজির হন। মামলার শুনানি করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ।
জামিন পাওয়ার পর আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি আইভী। তবে গাড়িতে ওঠার আগে তিনি বলেন, ‘জয় বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’
এদিকে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও মাহবুবুর রহমান তুষারের সহকর্মী আইনজীবী এবং সংস্কৃতিকর্মীরা দাবি করেছেন, তারা সাবেক মেয়র আইভীর অন্যতম আইনজীবী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আগের দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সে সময় তারা কোনো স্লোগান দেননি বলেও দাবি করেছেন তারা।
জিয়াউল ইসলাম কাজল নারায়ণগঞ্জের কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা এবং শহরের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা রফিউর রাব্বি বলেন, জিয়াউল ইসলাম কাজল সব সময় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনে সাংস্কৃতিক জোট ছাত্র-জনতার পক্ষে কর্মসূচি পালন করার সময় তিনি জোটের সভাপতি ছিলেন।
রফিউর রাব্বি বলেন, “সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি সব সময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের পক্ষে যে যুক্তি দিয়েছে, তা সঠিক নয়। আমরা এ গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “কারও পুরোনো অবস্থান আর বর্তমান অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। আমরা তদন্তের স্বার্থে তাদের গ্রেপ্তার করেছি। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”





