সীমান্তে সতর্ক বিজিবি

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ১৭ অক্টোবরের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫২ পূর্বাহ্ন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার খবরকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নতুন করে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে ব্রিফিংয়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি রাখাইনের পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেন।

আরও পড়ুন: অফিসার্স ক্লাব থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ উদ্ধার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ফেসবুক পেজে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, গ্রাম ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রিত শিবিরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ১৪ অক্টোবর আরাকান আর্মির প্রধান ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রাখাইনের রাথেডং এলাকার আহ নাউক পিয়িন গ্রামের রোহিঙ্গাদের ১৭ অক্টোবরের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানানো হয়। ওই গ্রামের ৫১ জনকে অপহরণের অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি।

রাখাইনে সংঘাতের কারণে নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তেও পড়তে পারে। অতীতে মিয়ানমারে সহিংসতা থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গাদের নাফ নদী ও স্থলসীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গার পাশাপাশি নতুন করে মানুষের আগমন ঘটলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তা নিয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: সর্বোচ্চ মণ্ডপ, বরাদ্দ, ছুটি ও নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন করে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে বিজিবি কী পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার সীমান্ত দুর্গম; সেখানে পাহাড় ও জঙ্গল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিজিবি সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে।

দ্রুত কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিজিবির এই কর্মকর্তা।