হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:১৭ অপরাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৫ অপরাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাকে সরকারি চাকরিবিধিতে ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ও ডিবির আলোচিত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর ধরা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে শনিবার (৩১ অক্টোবর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে আনা বিভাগীয় অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কাজে যোগ দেননি।

এ ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। পরে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ০০৫/২০২৫ নম্বর বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

আরও পড়ুন: রিয়াদে কারখানায় আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় গত ২২ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ৬ আগস্ট জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এরপর গত ২০ আগস্ট তাকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাতেও তিনি কোনো জবাব দেননি। চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হলে গত ১ অক্টোবর কমিশনও বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়।

বিভাগীয় মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন ও সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ পর্যালোচনা করে সরকার তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন। আদেশে বলা হয়েছে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।