নারায়ণগঞ্জে আইভির বাসায় ‘গাদিরে খুম’ অনুষ্ঠান ঘিরে নানা কৌতুহল
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী কারাগার থেকে মুক্তির পর তার কারাজীবনের অভিজ্ঞতা ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। ঘনিষ্ঠ সূত্র ও সাক্ষাৎপ্রাপ্তদের বরাতে জানা যায়, প্রায় ১৩ মাসের কারাজীবনে তিনি ধর্মীয় অনুশীলন, নামাজ-দোয়া ও আত্মশুদ্ধির দিকে বেশি মনোযোগী ছিলেন।
কারা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ও সাক্ষাৎপ্রাপ্ত ব্যক্তির দাবি অনুযায়ী, তিনি বন্দিজীবনকে শুধু শাস্তি নয়, বরং আত্ম-উন্নয়ন ও আত্মিক চর্চার সময় হিসেবে দেখেছেন। এ সময় তিনি নিয়মিত ধর্মীয় আলোচনা ও দোয়া-দরুদে সময় কাটাতেন বলেও জানা গেছে।
আরও পড়ুন: যুবদল কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নির্বাচিত হলেন কিশোরগঞ্জের কৃতি সন্তান সাইদুর রহমান
কারাগারে অবস্থানকালে ‘গাদিরে খুম’ নামক একটি ঐতিহাসিক দিনকে ঘিরে তার বিশেষ প্রার্থনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তার ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, তিনি বিশ্বাস করতেন এই দিনের সঙ্গে তার জীবনের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি মুক্তির জন্য দোয়া করতেন। পরে মুক্তির সময়কে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই বিশ্বাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন বলে জানা যায়।
‘গাদিরে খুম’ প্রসঙ্গ
আরও পড়ুন: অভিজ্ঞ নেতৃত্বে আস্থা রেখে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
ইসলামি ইতিহাসে ‘গাদিরে খুম’ একটি সুপরিচিত ঘটনা। ইসলামিক স্কলারদের ব্যাখ্যায়, বিদায় হজ শেষে নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) একটি স্থানে সাহাবিদের উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং কোরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার পাশাপাশি আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তবে এ ঘটনার ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন মতপার্থক্যও রয়েছে।
ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ একাধিক আলোচনায় বলেছেন, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘোষণার চেয়ে মূলত ভালোবাসা ও সম্পর্কের গুরুত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়—এমনটি অধিকাংশ সুন্নি আলেমদের মত।
মুক্তির পরের অবস্থান
মুক্তির পর সাবেক মেয়র আইভী তার বাসভবনে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সময় বেশি কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি বর্তমানে রাজনৈতিক বক্তব্য বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছেন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও আত্মিক বিষয় নিয়েই সময় অতিবাহিত করছেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন আলোচনা ও ব্যাখ্যা রয়েছে।





