কিশোরগঞ্জ-২ আসনে একই পরিবারের তিন প্রার্থী, ভিন্ন দল—রাজনীতিতে ত্রিমুখী সমীকরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক দৃশ্যপট। একই পরিবারের তিন সদস্য তিন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভোটের মাঠে নামায় এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল।
এই আসনে সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন সম্প্রতি বিএনপি ছাড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে দলটির মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মোড়লের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরদিকে তার বড় ছেলে মো. শাহরিয়ার জামান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এবং ছোট ভাই সাবেক এমপি মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
আরও পড়ুন: নারীদের এনজিও ঋণের দায়িত্ব নেবে সরকার: মির্জা ফখরুল
একই পরিবারের বাবা, ছেলে ও ভাই—তিনজনের ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান নির্বাচনি এলাকাটিকে বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত করেছে। স্থানীয় ভোটারদের কাছে এটি যেমন অভিনব রাজনৈতিক চিত্র, তেমনি ভোটের সমীকরণও হয়ে উঠেছে জটিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে হঠাৎ জামায়াতে যোগ দেওয়া আখতারুজ্জামান রঞ্জনের সিদ্ধান্ত কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের স্বতন্ত্র ও ভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়টিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: যারাই বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের ‘গুপ্ত’ বলবেন: তারেক রহমান
স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তিনি কখনো সে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি। কিশোরগঞ্জ-২ ও ঢাকা-১৭—এই দুই আসন থেকেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বলে জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. শাহরিয়ার জামান বলেন, তিনি নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করতে চান। পরিবারের একাধিক সদস্যের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করেন না এবং ভোটারদের রায় মেনে নেওয়ার কথাও জানান।
এ বিষয়ে আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে কেউ নির্বাচন করতে পারে। ছেলে ও ভাইয়ের প্রার্থী হওয়াকে তিনি স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
একই পরিবারের তিনজনের ভিন্ন রাজনৈতিক পথে হাঁটা স্থানীয় রাজনীতিতে বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটারদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ এটিকে পারিবারিক রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করছেন।





