এত সীমিত সময়ের প্রচারণা আমার রাজনৈতিক জীবনে প্রথম অভিজ্ঞতা: মির্জা আব্বাস

Sanchoy Biswas
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৮ অপরাহ্ন, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে দলটির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, নির্বাচনের সময় খুবই সীমিত। মাত্র ২১ দিনের মধ্যে প্রচারণা চালাতে হচ্ছে, যা তার রাজনৈতিক জীবনে প্রথম অভিজ্ঞতা।

তিনি বলেন, অতীতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। ভবিষ্যতে যদি কখনো প্রয়োজন হয়, তারা তাকে স্মরণ করলে তিনি পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর নেতারা আমেরিকায় আমাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছে

বুধবার বিকালে রাজধানীর কাকরাইলের সেন্ট মেরি'স ক্যাথলিকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি কাকরাইল এলাকায় গণসংযোগ করেন। রাতে তিনি শান্তিনগর শেলটেক রহমান ভিলায় ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, আগে এই ক্যাথেড্রাল ও কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনে সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে যুক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় গেলে তরুণ-তরুণীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেবে জামায়াত

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করলেও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে এ দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণ ও সাবলীল জীবনযাপন করছে এবং কারও সঙ্গে তাদের, বিশেষ করে বাংলাদেশে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক নেই। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃত্বদানকারীদের তিনি ধন্যবাদ জানান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে ভূমিকা রাখার জন্য।

আব্বাস বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেই বাংলাদেশকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়—আমরা সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন বাংলাদেশি নাগরিক।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি ব্যবহার করে কোনো সম্প্রদায়কে আলাদা করে দেখানো ঠিক নয়। এ দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার সমান এবং কেউ কারও ভোটব্যাংক নয়। এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সম্প্রদায়কে পরোক্ষভাবে অপমান করা হয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ইসলাম ধর্মে স্পষ্টভাবে বলা আছে— যার যার ধর্ম তার তার কাছে এবং কোনো ধর্মে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। সেই শিক্ষার ভিত্তিতেই বাংলাদেশে সবাই মিলেমিশে বসবাস করছে। মাঝে মাঝে কিছু কুচক্রী মহল বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করলেও সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করা হয়।

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের সংখ্যা কম মনে করে যেন কেউ নিজেদের অবহেলা না করেন। একটি ভোটও গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই ভোট অন্যদের উৎসাহিত করতে পারে। তিনি আহ্বান জানান, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন তার পক্ষে ভোট দেন এবং পরিচিতজনদেরও ভোট দিতে উৎসাহিত করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা-৮ আসনের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত ভোটে তিনি বিজয়ী হবেন।