চরিত্রহননের অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষমা করলেন জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে যারা অন্যায়ভাবে চরিত্রহনন করেছেন, তাদের সবাইকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন: আমি প্রথম বিদ্রোহ করেছি, জামায়াত আমিরের বক্তব্য ঠিক আছে: কর্নেল অলি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে আমি একজন আহত সৈনিক। গত কয়েক দিন ধরে দেখেছেন, আমার ওপর চতুর্দিক থেকে মিসাইল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আমি কোনো অ্যান্টি-মিসাইল ব্যবহার করব না। বরং আপনাদের সাক্ষী রেখে, যারা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমার চরিত্র হনন করেছেন, আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিই।’
তিনি বলেন, প্রতিশোধ তার রাজনীতির অংশ নয়। ‘আমি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। কাউকে ক্ষমা করতে পারলে সমাজের কাছ থেকেও একদিন নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা পাওয়ার আশা করা যায়,’—বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: খবর পাচ্ছি জাল ব্যালট পেপার ছাপা হচ্ছে
জামায়াত আমির আরও বলেন, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজ ও দেশের বড় ক্ষতি করেছে এবং সেই পথে না হাঁটার অঙ্গীকার করেন তিনি। বক্তব্যে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি পরিচ্ছন্ন ও নৈতিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দলটি এগোচ্ছে। অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পেছনে ফেলে মেধা, উদ্ভাবন ও আদর্শনির্ভর নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলের ইশতেহার জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, শান্তিবান্ধব ও শৃঙ্খলাবান্ধব। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা যাচাই করা জনগণের অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বিরোধী দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও আলেম-ওলামাসহ অনেকেই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবে দলটি নিজে নিপীড়নের শিকার হলেও ভবিষ্যতে যেন কোনো অবস্থাতেই জালিমে পরিণত না হয়—সেই আহ্বান জানান তিনি।
শেষে তিনি বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে দেশের মানুষকে কষ্ট দেওয়ার প্রবণতা থেকে সবাইকে বিরত থাকার জন্য অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।





