উপনির্বাচন ৯ এপ্রিল
তারেক রহমানের ছাড়া বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী বাদশা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই আসনে জয়লাভের পর একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায় বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর শূন্য করা এ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, চেয়ারম্যানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে রেজাউল করিম বাদশাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সংরক্ষিত মহিলা আসনে নতুন সমীকরণ, আলোচনায় আসমা আজিজ
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—দুই আসন থেকেই বিজয়ী হন। প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রার্থী হতে পারলেও একটিমাত্র আসনের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। সে অনুযায়ী তিনি ঢাকা-১৭ আসন বহাল রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হলে সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। একই দিনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনেও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কমিশন সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
আরও পড়ুন: জামায়াতের ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২ মার্চ, বাছাই ৫ মার্চ এবং আপিল গ্রহণ করা হবে ৬ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১১ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ মার্চ এবং ১৫ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সচিব জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোট সম্পন্ন হলেও শেরপুর-৩ আসনে বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষিত হওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত বৈধ প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে কিডনিজনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন স্থগিত করার বিধান রয়েছে। তবে প্রথম ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছিল, তাদের নতুন করে মনোনয়ন দাখিল করতে হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যানের ছেড়ে দেওয়া আসনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তা নিয়ে যে জল্পনা ছিল—তা কাটিয়ে বিএনপি এবার জেলা সভাপতির ওপর আস্থা রেখেছে। ফলে আসন্ন উপনির্বাচন ঘিরে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে বাড়ছে কৌতূহল।





