টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের

Sanchoy Biswas
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:২৬ অপরাহ্ন, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনা ও নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশের সামনে মূলত দুটি পথ খোলা ছিল—ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অথবা পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ানো। শেষ পর্যন্ত ভারতে না যাওয়ার অবস্থানেই অনড় থাকল বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের নতুন প্রধান কোচ জিনেদিন জিদান

বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধে সুবিচার করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেই ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেই অবস্থানেই তারা অটল রয়েছে।

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “আমরা সবাই স্বাভাবিকভাবেই চাইতাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু ভারতে খেলার ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, সেটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এই আশঙ্কা কোনো অনুমানভিত্তিক বিশ্লেষণ নয়, বরং বাস্তব ঘটনার আলোকে নেওয়া সিদ্ধান্ত।”

আরও পড়ুন: অবশেষে জনসমক্ষে লিওনেল মেসি!

তিনি জানান, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগই বাংলাদেশের এই অবস্থানের প্রধান কারণ এবং সেই উদ্বেগ এখনো বহাল রয়েছে।

এদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ এখনও চায় তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক। তিনি বলেন, “আমরা বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব।”

এর আগে কট্টরপন্থীদের আন্দোলনের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের একটি দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে আইসিসি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, মুস্তাফিজ নিজে আইপিএল থেকে সরে দাঁড়াননি, তার কোনো ইনজুরিও ছিল না এবং বিসিবিও তার এনওসি বাতিল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পরই আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প ভেন্যুতে খেলার দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।