মুসলিম ফুটবলারদের জন্য ফিফার নতুন সিদ্ধান্ত
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মুসলিম ফুটবলারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
আগের দুটি বিশ্বকাপে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারের স্পন্সর ছিল একটি মদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৮ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল শেনাওয়ি স্পন্সর সংশ্লিষ্টতার কারণে ওই পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। সেই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আরও পড়ুন: ৩৩ রানে নেই ৪ উইকেট, বিপদে পড়ে চা খেতে গেল বাংলাদেশ
বর্তমান বিশ্বকাপে সমর্থকদের অনলাইন ভোটের মাধ্যমে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত করা হচ্ছে। এই পুরস্কার প্রদানে ফিফার সহযোগী হিসেবে রয়েছে মাইকেল আলট্রা নামের একটি ব্র্যান্ড।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচসেরা খেলোয়াড় ট্রফি হাতে স্পন্সরের লোগোসম্বলিত ব্যাকড্রপের সামনে ছবি তোলেন। ট্রফিতেও স্পন্সরের নাম থাকে এবং সেই ছবি ফিফার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
আরও পড়ুন: সাদমানের সেঞ্চুরির পরও ২৭২ রানে অলআউট বাংলাদেশ
তবে মুসলিম ফুটবলারদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেহেতু সংশ্লিষ্ট স্পন্সর একটি অ্যালকোহল ব্র্যান্ড এবং ইসলাম ধর্মে মদ্যপান নিষিদ্ধ, তাই ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুরস্কার প্রদানের সময় ব্যাকড্রপ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এর পরিবর্তে ব্যাকড্রপে শুধু "Superior Player of the Match" লেখা এবং ফিফা বিশ্বকাপের লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও ট্রফির নকশা অপরিবর্তিত থাকছে, তবে তাতে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের নাম প্রদর্শন করা হচ্ছে না।
ইতোমধ্যে কানাডার ইসমাইল কোনে, কাতারের মাহমুদ আবুনাদা এবং মরক্কোর ইসমাইল সাইবাড়িসহ কয়েকজন মুসলিম ফুটবলারের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেও ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের সময় স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের লোগো হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মদ ও জুয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার নীতি অনুসরণ করেন।
ফুটবলে এ ধরনের পরিবর্তন নতুন নয়। বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শ্যাম্পেন উদযাপনের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই নন-অ্যালকোহলিক শ্যাম্পেন ব্যবহার করা হচ্ছে।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান জানিয়ে ফিফার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।





