ইসরাইলি প্রযুক্তির যুদ্ধসরঞ্জাম সৌদি-কাতারের হাতে, দাবি হারেৎজের

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরাইলের তৈরি উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সৌদি আরব এবং কাতারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ। উন্মুক্ত নথি, চুক্তিপত্র এবং বিভিন্ন আলোকচিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্রি হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের জন্য ব্যবহৃত কম্পিউটারাইজড যুদ্ধ হেলমেট, নাইট ভিশন চশমা এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অথচ সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বা প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নেই। ফলে এই তথ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে আজ কোনো ভূমিকম্প হয়নি, পুরোনো তথ্য প্রকাশে বিভ্রান্তি

হারেৎজের দাবি, কাতারের রাজপরিবারের ১১টি বিমানের মধ্যে তিনটিতে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের তৈরি ‘সি-মিউজিক’ (C-MUSIC) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বাসেলে বিমানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের সময় এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কাতারের এফ-১৫ কিউএ ‘আবাবিল’ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ থেকে ২৫ কোটি ডলারের সাব-কন্ট্রাক্ট পেয়েছিল। ওই চুক্তির আওতায় কাতারের জন্য প্রায় ১৬০টি জেএইচএমসিএস (JHMCS) কম্পিউটারাইজড যুদ্ধ হেলমেট এবং এএন/এভিএস-৯ (AN/AVS-9) নাইট ভিশন গগলস সরবরাহ করা হয়।

আরও পড়ুন: অস্থায়ী সুরক্ষায় থাকা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

একই ধরনের তথ্য সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও উঠে এসেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ২০১০ সালের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বোয়িংয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবের কাছে এফ-১৫এসএ যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তির অংশ হিসেবে ৪৬২টি জেএইচএমসিএস হেলমেট এবং সমসংখ্যক নাইট ভিশন গগলস সরবরাহ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে সৌদি বিমানবাহিনীর এসব হেলমেট ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে কাতারের সঙ্গে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকলেও, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে কাতারের গোপন যোগাযোগ নিয়ে চলমান ‘কাতারগেট’ বিতর্কের মধ্যেই এই নতুন তথ্য সামনে এসেছে।

তবে হারেৎজের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে সৌদি আরব, কাতার কিংবা ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।