আসছে ‘ঝংকার’ বৃষ্টিবলয়: ঝড়-বৃষ্টির আভাস
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে এবং তা আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষক দল (বিডব্লিউওটি)। তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও এর মধ্যেই ‘ঝংকার’ নামে নতুন একটি বৃষ্টিবলয় ধেয়ে আসার খবর পাওয়া গেছে, যা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিডব্লিউওটির পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হলেও তা গরম কমাতে তেমন কার্যকর হচ্ছে না, বরং ভ্যাপসা গরম আরও বাড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাঁচ বিভাগে বৃষ্টি-বজ্রপাতের সম্ভাবনা, বাড়তে পারে তাপমাত্রা
সংস্থাটি জানিয়েছে, ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ‘দহন’ নামের এই তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হতে পারে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হতে পারে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, নড়াইল, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, রাজবাড়ী, সাতক্ষীরা, বগুড়া, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা।
এ সময় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে ১৪ থেকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মেহেরপুর ও রাজশাহীর কিছু এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন: চার জেলায় দুপুরের মধ্যেই কালবৈশাখীর সতর্কতা
এদিকে একই সময়ে ‘ঝংকার’ নামে নতুন একটি বৃষ্টিবলয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, এই বৃষ্টিবলয়ের প্রভাবে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে সিলেট বিভাগে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগেও এ বৃষ্টিবলয়ের প্রভাব লক্ষ্য করা যেতে পারে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের কিছু এলাকাতেও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ১৩ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই বৃষ্টিবলয়ের প্রভাব দেখা যাবে। এ সময় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে, যার বেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ভারী বর্ষণের ফলে সিলেটের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধস এবং নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।





