সারাদেশে বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু
মৌসুমের শুরুতেই বজ্রপাতের তীব্রতা বাড়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঘটনায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। অধিকাংশই হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় মোট ৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাবাজার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য:
আরও পড়ুন: ঢাকাসহ ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা, নদীবন্দরে সংকেত জারি
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিন স্থানে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আব্দুল মোতালিব (৫৫), একই উপজেলার মোনায়েম খান পালান (৫৩) এবং সিরাজগঞ্জের শুভ মণ্ডল। তারা যথাক্রমে মাছ শিকারি, ধান ব্যবসায়ী ও কৃষক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ধনু নদীর ফেরিঘাটে মাছ ধরার সময় আব্দুল মোতালিব বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে, হাওরে ধান কাটার সময় মোনায়েম খান ও শুভ মণ্ডল বজ্রপাতে নিহত হন।
আরও পড়ুন: বজ্রপাতের তাণ্ডবে এক দিনে নিভল ১৪ প্রাণ
এদিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মকসুদ মিয়া (৩৫) ও আব্দুল সালাম (৬০)। হাওরে ধান কাটার সময় এবং বাড়ি ফেরার পথে তারা বজ্রাঘাতে মারা যান। আহত সামরুজ মিয়াকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে জমির উদ্দিন (৩৮) ও জমির হোসেন (৪০)-এর পরিচয় পাওয়া গেলেও অপর একজনের পরিচয় জানা যায়নি। তারা সবাই হাওরে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খোলা মাঠ ও হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় আবহাওয়া খারাপ হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





