কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ন, ২২ জুন ২০২৩ | আপডেট: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, ২২ জুন ২০২৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বৃষ্টির সঙ্গে উজানের ঢলের কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়ছে কুড়িগ্রামের চিলমারীসহ নিম্নাঞ্চলের মানুষ। বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা। গত ৭ দিনে বড়ভিটা চরের শতাধিক বাড়িঘরসহ নয়ারহাট, অষ্টমীরচর, চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় ১০০ বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো দিশাহারা হয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া শুরু করেছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে থাকায় উপজেলা বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে ভাঙ্গন ও বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

জানা গেছে, বৃষ্টি উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বড়ভিটা চরে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। গত ১ সপ্তাহে প্রায় শতাধিক বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগে আরো শতাধিক পরিবার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে হারিয়েছে তাদের ঘরবাড়ি।

আরও পড়ুন: সুবিধাবঞ্চিত যাত্রীদের কণ্ঠস্বর কবীর আহমেদ ভূঁইয়া, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে জোরালো আবেদন

এছাড়াও নয়ারহাট, অষ্টমীরচর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়ায় বিভিন্ন স্থাপনাসহ প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়েছে ব্রহ্মপুত্র। 

একদিকে বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব তার উপর বন্যার হানা বিপাকে পড়েছে শত শত পরিবার। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো কেউ খোলা আকাশের নিচে, কেউ অন্যের স্থানে আশ্রয় নিয়ে করছে মানবেতর জীবন যাপন। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো জানায়, জায়গাসহ বাড়িঘর নদীতে গেলে আর কি থাকে, হামরা এর স্থায়ী সমাধান চাই। ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্লাবিত হয়ে বজড়াদিয়ার খাতা, চুড়ুয়া পাড়া, বড়ভিটা, জোড়গাছ, রাজারভিটাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। 

আরও পড়ুন: ৫ বছরের শিশুকে গণধর্ষণ ও হত্যার মামলার রায় ১০ কর্মদিবসে; ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১ জনের কারাদণ্ড

রানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, বড়ভিটা এলাকার ইতি মধ্যে ১ থেকে দেড়শত বাড়িঘর নদীতে ভেঙ্গে গেছে এবং গত ১ সপ্তাহে নতুন করে আরো প্রায় শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলিন হয়েছে। তিনি আরো জানান, নদী ভাঙ্গন সাথে বন্যার থাবা অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো। ইতিমধ্যে ভাঙ্গন ও বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অসহায় মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রুকুনুজ্জামান শাহিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহববুর রহমান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আছমা বেগম। এসময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।