মিছিল ও সহিংসতার পর থমথমে খাগড়াছড়ি, চলছে ১৪৪ ধারা
খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনার জেরে কয়েকদিনের অবরোধ, মিছিল ও সহিংসতার পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জুম্ম ছাত্র জনতার ব্যানারে চলছে অনির্দিষ্টকালের জন্য তৃতীয় দফার সড়ক অবরোধ কর্মসূচি।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে খাগড়াছড়ি শহর ও আশপাশ এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। সাধারণ মানুষও বাসাবাড়ি থেকে রাস্তায় বের হতে পারছেন না। তবে শনিবার রাতে সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ২ হাজার ১৪৭ জন পর্যটককে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে অস্ত্রসহ দুই আসামী গ্রেফতার
ভোর থেকে খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি অবাহত আছে শহরে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি শহরে রাস্তার মোরে মোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত আছে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাকিং করে বলে দিচ্ছে অজতা রাস্তা ঘুরা ঘুড়ি না করার জন্য প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাহির না হওয়ার জন্য। আজ এগারটা সময় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যলয়ে আইনশৃঙ্খলা সভা আয়োজন করেন এতে উপস্থিত থাকবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।
এর আগে গতকাল দুপুরে থেকে সদর উপজেলা পরিষদ এলাকা, মহাজন পাড়া, নারিকেল বাগান, চেঙ্গী স্কোয়ার ও শহীদ কাদের সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় স্বনির্ভর ও নারিকেল বাগান এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে হামলার কারনে
আরও পড়ুন: সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাসের তীব্র সংকট, জনজীবনে চরম বিপর্যয়
পরিস্থিতি অবনতির পর খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তা বলবৎ আছে। ৭ প্লাটুন বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিভিন্নস্থানে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন মোতায়েন রয়েছে।
তবে সহিংসতায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাতে বৌদ্ধবিহারে নাশকতার প্রস্তুতিকালে তিন পাহাড়ি যুবককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
খাগড়াছড়ি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ’আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান করা হলো।
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান, পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত এই ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় শয়ন শীল (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার রাতে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নতুন করে সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পর তা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। পরে আবারও অবরোধের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা আসে।
এদিকে আজ থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হওয়ায় জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।





