লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় চালুতে আইনি লড়াই, হাইকোর্টের রুলে নতুন আশার আলো
লালমনিরহাটের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পুনরায় চালু করতে নির্দেশনা না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ আদেশের মাধ্যমে লালমনিরহাটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি নতুন গতি ও আশার আলো পেল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত সোমবার এক রিটের শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন। রুলে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে এবং কেন এ নিষ্ক্রিয়তাকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তাও ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।
জানা গেছে, আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন গত ২৮ জুলাই হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন। রিটে উল্লেখ করা হয়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৩১ সালে লালমনিরহাটে ১ হাজার ১৬৬ একর জায়গার ওপর বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৪৭ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিমানবন্দরটি ব্যবহৃত হলেও ১৯৫৮ সালের পর থেকে তা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ
রিটে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই বছরের ১৩ মার্চ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু পরিদর্শনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, লালমনিরহাটের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বিমানসেবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত, যা সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত যোগাযোগ ও চলাফেরার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এ কারণে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করা জরুরি ও সময়োপযোগী।
হাইকোর্টের এই রুলের আদেশে লালমনিরহাট জেলায় নতুন আশা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিমানবন্দরটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলের এই জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের গতি বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে লালমনিরহাটবাসী—বিমানবন্দর পুনরায় চালুর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্ন পূরণের আশায়।





