টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান নিয়ে সরকারের কাছে দুই দাবি ওলামা-মাশায়েখদের
২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রাখাসহ দুটি দাবি জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখরা। একই সঙ্গে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেড পয়েন্টে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরামর্শ সভা থেকে সরকারের কাছে এসব দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পাঁচ সিদ্ধান্ত
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে আয়োজিত সভায় দেশের ৬৪ জেলার নেতৃস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও শীর্ষ মুরুব্বিরা অংশ নেন।
সভা-পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম)-এর মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে আয়োজনের লক্ষ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহল থেকে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সাদপন্থীদের এবারের ইজতেমা আয়োজনের জন্য তিন দিন ময়দান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের মতামত নিতে তিনি পরামর্শ সভা আহ্বান করেন। সভায় আলোচনার পর দুটি দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।
আরও পড়ুন: মাস্ক পরে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন
প্রথমত, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে। মামলাগুলো বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন বলে জানানো হয়।
এ ছাড়া সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের বিষয়টি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসা, মারকাজ ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে দোয়ার আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে কিংবা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শাহ সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীরসাহেব মধুপুর, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা
সালাহ উদ্দিন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেম ও মুরুব্বিরা।





