এসিড নিক্ষেপের গুজবে কারখানায় ভাঙচুর-লুটপাট, ক্ষতি ৪০ লাখ টাকা
গাজীপুরের কাশিমপুরের শারদাগঞ্জে মাছিহাতা গ্রুপের মেগা ইয়ার্ন ডাইং মিলস লিমিটেড কারখানায় এসিড নিক্ষেপের গুজব ছড়িয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ সময় দুই কর্মকর্তার দুটি ল্যাপটপ লুটের অভিযোগও উঠেছে।
বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টন ও সুতার গুদামে আগুন
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ভাঙা কাচের স্তূপ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অফিসের আসবাব। কারখানার ভেতরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের চোখেমুখেও ছিল আতঙ্কের ছাপ।
কারখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা, দরজা-জানালা ও অফিসের আসবাব ভাঙচুর করেন।
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় জিয়নকাঠি সাহিত্য সংসদের পরিচিতি সভা
এ সময় ইটিপি (বর্জ্য পরিশোধনাগার) প্ল্যান্টের রাসায়নিকযুক্ত একটি পাইপ ভাঙতে গিয়ে শাহীন নামের এক শ্রমিকের শরীরে রাসায়নিক ছিটকে পড়ে।
পরে তাঁকে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, পাইপ ভাঙতে গিয়ে ওই শ্রমিকের মুখ, ডান হাত ও পায়ে রাসায়নিক ছিটকে পড়ে। পরে কারখানার কমপ্লায়েন্স বিভাগের কর্মকর্তা, শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছুটা সুস্থ বোধ করার পর তিনি বাসায় ফিরে যান।
কারখানার কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, প্রতি মাসের ২০ তারিখে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়। তবে এবার ব্যাংকিং সমস্যার কারণে আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) বেতন দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এর মধ্যেই কিছু শ্রমিক উত্তেজিত হয়ে কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হন। পরে এক শ্রমিকের শরীরে এসিড নিক্ষেপের গুজব ছড়িয়ে পড়লে ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় অফিস থেকে দুই কর্মকর্তার দুটি ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কারা গুজব ছড়িয়েছেন বা উসকানি দিয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কারও নাম জানাননি তিনি।
কারখানার শ্রমিক নাজমা বলেন, বেতন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একাংশ ভাঙচুর করেন এবং বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যান। রাসায়নিকযুক্ত পাইপ ভাঙতে গিয়ে এক শ্রমিকের শরীরে রাসায়নিক ছিটকে পড়েছিল। বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন যৌক্তিক হলেও ভাঙচুর ও লুটপাট সমর্থনযোগ্য নয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন তিনি।
কারখানার শ্রমিক নেতা পিয়াল আহম্মেদ রনি বলেন, বাইরের কেউ উসকানি দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। শাহজাহান নামের এক শ্রমিক নেতা বাইরে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে শ্রমিক নেতা শাহজাহান বলেন, ঘটনার আগে বেতন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরে এক শ্রমিকের শরীরে রাসায়নিক বা এসিড নিক্ষেপের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকেরা ভাঙচুর শুরু করেন। তবে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে আহত শ্রমিক শাহীনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করলেও কথা বলতে রাজি হননি।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বলেন, দেশের পোশাকশিল্প এমনিতেই নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গুজব ছড়িয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত এবং মদদদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ছুটিতে থাকায় কর্মস্থলে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।





