কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত এক যুবক

Sadek Ali
জসিম আজাদ, টেকনাফ
প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:০২ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নুর কামাল (২৫) নামের এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে। নুর কামাল একই ক্যাম্পের বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে।

আরও পড়ুন: কোটচাঁদপুরে প্রেসক্লাবের দুই প্রয়াত সাংবাদিকের স্মরণে দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

এর আগে, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ২৬ নম্বর নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আই-ব্লকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার (এডিআইজি)।

আরও পড়ুন: কুবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নুর কামাল ও খালেক গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুইপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ বাধে। এ সময় গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নুর কামাল আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নুর কামাল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং নিজের নামে বাহিনী গড়ে তুলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকায় নানা অপরাধ সংঘটন করে আসছিলেন।

এপিবিএন অধিনায়ক বলেন, রাতে সংঘর্ষের খবর পেয়ে এপিবিএন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কাউছার সিকদার।

গত কয়েক মাস ধরে ক্যাম্প এলাকার পরিবেশ কিছুটা শান্ত থাকলেও হঠাৎ করে আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় উত্তাপ ছড়িয়েছে। আতঙ্কে থাকা আশ্রিত রোহিঙ্গারা সংঘাত বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

ক্যাম্পের মাঝি আবুল কালাম বলেন, রাতে হঠাৎ করে গুলাগুলির তীব্র আওয়াজে ব্লকে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আমরা শান্তিতে থাকতে চাই, আশা করি সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসন এগিয়ে আসবে।