লক্ষ্মীপুরে জামায়াত–বিএনপির মারামারি, পাল্টাপাল্টি মামলায় আসামি ৩৮৭

Sanchoy Biswas
জাহাঙ্গীর লিটন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে জামায়াত–বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের মামলায় ১৭০ জন ও বিএনপির মামলায় ২১৭ জনকে আসামি করা হয়।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা হেজবুল্লাহ ও বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১৩

পুলিশ জানায়, হামলার অভিযোগ এনে জামায়াতের যুব বিভাগের চরশাহী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল বাদী হয়ে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৬০ জনকে আসামি করা হয়। একই ঘটনায় চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছতলা এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। তাদেরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে।

এদিকে শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে অবহিতকরণ সভা ডাকেন। সেখানে চরশাহীর মারামারির ঘটনা আলোচনায় উঠে আসে। এসময় রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ও জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক উভয়পক্ষকে আচরণবিধি মেনে চলতে আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার, আটক ৩

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানায়, মহিলা সভার নামে জামায়াতের কর্মীরা ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এতে বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় জামায়াত।

লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের জামায়াতের মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আমাদের মহিলা কর্মীদের প্রোগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এটি মীমাংসা হয়েছিল। এরপরই তারা ফের আমাদের পুরুষ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, জামায়াতের লোকজন ভোটারদের কাছ থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করে। ঘটনার সূত্রপাত সেখান থেকে। তবে উভয়পক্ষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আমি শুধু বিএনপির আহত নেতাকর্মী নয়, হাসপাতালের জামায়াত নেতাকর্মীদেরও দেখতে গিয়েছি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি সুষ্ঠু তদন্ত করে সুন্দর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, চরশাহীর ঘটনায় জামায়াত ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। ঘটনাটি তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ করছে।