হঠাৎ করেই নরসিংদীতে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি, স্থানীয় এমপির পোস্ট

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ১০:২১ পূর্বাহ্ন, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৫:০১ পূর্বাহ্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হঠাৎ করেই নরসিংদীতে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ২/৩ দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে হত্যা, ধর্ষণ, গুলিবর্ষণ ও নদীতে লাশ উদ্ধারের মতন চ্যাঞ্চলকর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও চুরি, ছিনতাই, রাহাজানির পাশাপাশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি তো লেগেই রয়েছে। আর এসব ঘটনায় পুলিশ তেমন কোন আশানুরূপ ভূমিকা পালন না করার ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে দিন দিন অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। এতে করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কাছে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত জীবন-মৃত্যুর সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের বেপরোয়ায় কেউ হারাচ্ছেন প্রান কেউ বা হচ্ছেন চিরতরে পঙ্গু। এসব ঘটনায় উদ্যেগ জানিয়ে নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা জানিয়ে এক আবেগগণ পোস্ট করেন। সম্প্রতি দেখা যায়, একইদিনে পৃথক দুই স্থানে নিখোঁজের পর ডোবায় স্কুলছাত্র এবং নদীতে অর্ধগলিত একব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। অপর আরেক ঘটনায় মাধবদীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কিশোরীকে বাবা কাছ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বর হামলা এবং সর্বশেষ রায়পুরায় স্বপন নামে একব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হওয়ার মত ঘটনা ঘটে। আর এসব ঘটনার ফলে জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা। 

গত ২৫ ফেব্রুয়ারী (বুধবার) সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার শীলমান্দি ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের বাড়ীর পাশে একটি ডোবা থেকে জুনায়েদ (৭) নামে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একছাত্রের লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ। অপরদিকে একই দিনে বিকেলে নরসিংদী শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে চরআড়ালিয়ার বড়চর মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে একব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে করিমপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ি।

আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার  সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে  জুনায়েদ বাড়ি থেকে বের হয়। সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়িয়ে গেলেও সে আর বাড়ি ফিরে আসে নাই। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা  বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি। পরে বুধবার সকাল ৮টার দিকে নিহতের বাড়ির পাশের একটি ডোবাতে তার মরদেহ দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পরিবারের দাবি, নিহত জুনায়েদের মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে অন্যত্রে হত্যা মরদেহ ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। তবে কি কারণে এই হত্যাকান্ড তা কেউ বলতে পারছে না। তার এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

আরও পড়ুন: নান্দাইলের বাহাদুরপুর হাউজ লোকে-লোকারণ্য, নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস

অপর আরেক ঘটনায় ওইদিন বিকেলে চরআড়ালিয়ার বড়চর এলাকার মেঘনা নদীতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে করিমপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ি। 

এবিষয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ সুব্রত পোদ্দার বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহ অজ্ঞাত পুরুষ। অনুমান ৫/৭ দিন পূর্বে ভিকটিমের মৃত্যু হয়। শরীরে পঁচন ধরায় আঘাতের চিহ্ন বোঝা যায়নি। মৃতদেহের বিভিন্ন অংশের চামড়া ও মাংস খসে পড়েছে। 

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সদর উপজেলার মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুুলে নিয়ে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে আমেনা বেগম (১৫) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের স্বজন সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম পনেরো দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করেন মহিষাশুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আহম্মদ। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেন। তারা আরও জানান ওই কিশোরী মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় তার সৎ বাবার সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতো এবং তার বাবার বাড়ি বরিশালে।

নিহতের বাবা বলেন, বুধবার বিকালে মেয়েকে খালার বাড়িতে রাখতে যাচ্ছিলেন। পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌচ্ছালে নূরার নেতৃত্বে ৪/৫ জন মিলে তার কাছ থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির লোকজন অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির করে না পেয়ে তারা বাড়ি ফিরে যায়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে লোকমুখে শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করি। 

একই দিনে দুপুরে আরেক ঘটনায় রায়পুরায় সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর শাখাওয়াত হোসেন মিয়ার স্বপদে দায়িত্ব পালনের দাবির পক্ষে মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে নাগরিক সমাজ, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন সন্ত্রাসী এ হামলা চালিয়েছে বলে জানা যায়। এসময় তারা মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালাগালি শুরু করেন এবং তাদের হাতে থাকা ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করেন। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হন তারা। সর্বশেষ রাত সাড়ে ৯ টার দিকে রায়পুরার তুলাতুলি গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষে হামলায় জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং একাধিক মামলার আসামী স্বপন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। এসব ঘটনার বিশেষ করে কিশোরী আমেনা বেগম হত্যায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে যা লিখেন তা হুবাহু তুলে ধরা হলো :-

 আমি নরসিংদীর জেলা প্রশাসক এবং সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, তারা যেন এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেন এবং নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন।

আমিনার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায় তা নিশ্চিত করতে আমার সাধ্যের সবটুকু আমি করব এবং কোনো একজন অপরাধীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

I am urging Narshingdi zela proshashok and all the law enforcement agencies to properly investigate this heinous murder and apprehend all perpetrators and bring justice to the victims families. 

I will do everything in my power to make sure ameena’s family recieves justice and no one single perpetrator will be spared.

#AdminPost

#JusticeForAmeena #নরসিংদী  #WeWantJustice #StandForAmeena #Narsingdi #LawAndOrder #BNP