আলোচিত কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৯
সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত কিশোরী আমেনা বেগম (১৫) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নিহত কিশোরী আমেনার সৎ পিতা মোঃ আশরাফ আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। nপুলিশের ভাষ্যমতে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষোভের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মেয়েকে হত্যা করেন তিনি। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ান (৬৫) ও তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), মো. আইয়ুব (৩০), ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০) এবং নিহত কিশোরী আমেনার সৎ পিতা মো. আশরাফ আলী (৪০)।
আরও পড়ুন: মারকাযুল উলূম মাদরাসা যুব কমিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আশরাফ আলী তার সহকর্মী সুমনের বাড়িতে যাওয়ার পথে আমেনার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একাই হত্যা করেন। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভিকটিমের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।
এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে প্রথমে আমেনার প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এবং আরেক অভিযুক্ত হযরত আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আরও পড়ুন: হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
পুলিশ আরও জানান, কিশোরী আমেনার সাথে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।অপরদিকে ঘটনার ১০/১২ দিন আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হযরত আলীর বাড়িতে হযরত আলী, এবাদুল্লাহ, জামান ও গাফফার মিলে সংঘবদ্ধভাবে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠে। পরে ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে এবং হযরত আলীকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করলে রহস্যের ধূম্রজাল খুলতে থাকে। পরে পুলিশ কিশোরীর পিতার আচরণ সন্দেহজনক হলে পুলিশ তাকে পুলিশী হেফাজতে নিলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি আদালতে হত্যার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।





